প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 4, 2026 ইং
বিয়ের প্রলোভনে একাধিক নারীকে প্রতারণার অভিযোগ, ফুলতলায় চাঞ্চল্য

বিয়ের প্রলোভনে একাধিক নারীকে প্রতারণার অভিযোগ, ফুলতলায় চাঞ্চল্য
উপজেলা প্রতিনিধি(ফুলতলা)
খুলনার ফুলতলা থানাধীন পাইগ্রাম কসবা দক্ষিণ ডিহি এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক নারীকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কাজী আহমেদ হোসেন রিফায়েতের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রিফায়েত ওই এলাকার বাসিন্দা কাজী তৈবুর রহমান তবিবুরের ছেলে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রিফায়েত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে নারীরা বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে গেলে পরিবারের সহযোগিতায় স্বল্প কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, রিফায়েতের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২), পিতা—মোঃ সোহরাব আলী, সাং—শহিদপাড়া, থানা—বেচাছা, জেলা—দিনাজপুর। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের দাবিতে তিনি গত ২৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে রিফায়েতের বাড়িতে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে রিফায়েতের পরিবার মাত্র ২ লক্ষ্য টাকা কাবিনের বিনিময়ে স্থানীয় এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করে।
বিয়ের পর গার্মেন্টসে চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলে সুমাইয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাকরির বেতন প্রতি মাসে স্বামী রিফায়েত নিজেই গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ। দুই থেকে তিন মাস সংসার করার পর ব্যবসার অজুহাতে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে পুনরায় যৌতুকের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করা হলে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তা মেটানো সম্ভব না হওয়ায় শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী নারী সংসার ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
অভিযোগ রয়েছে, সংসার ছেড়ে দেওয়ার পরও রেহাই পাননি ভুক্তভোগী। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করা হয়।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার সাহসিকতার সঙ্গে হুমকির তোয়াক্কা না করে আইনের আশ্রয় নেন এবং দিনাজপুর আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী দুই নারীর ভাষ্যমতে, একই কৌশলে এর আগেও রিফায়েত একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। অনুসন্ধানে আরও অন্তত দুই নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ ধরনের প্রতারণার শেষ কোথায়। নারীদের জীবন নিয়ে যারা এভাবে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ কবে নিশ্চিত হবে?
ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন